পাকিস্তানের করাচিতে একটি অত্যাধুনিক ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ব্লকচেইন জোন প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে সৌদি আরব। একই সঙ্গে দেশটিতে আরও কয়েকটি বৃহৎ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত বিনিয়োগ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। পাকিস্তান সরকার বর্তমানে ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনকে একটি নিয়মতান্ত্রিক আইনি কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে, যেটিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন রয়েছে বলে জানা গেছে।
এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে করাচি বন্দরের জলসীমা সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একটি বিশাল ‘সামুদ্রিক ব্যবসা জেলা’ (Maritime Business District) গড়ে তোলার লক্ষ্যে সৌদি ও পাকিস্তানি অংশীদারদের মধ্যে একটি কৌশলগত সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাকিস্তানের সামুদ্রিকবিষয়ক মন্ত্রী মুহাম্মদ জুনাইদ আনোয়ার চৌধুরী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সমঝোতা স্মারক ও প্রকল্পের বিবরণ: মন্ত্রী জানান, করাচি পোর্ট ট্রাস্ট (KPT), সৌদি বিজনেস কাউন্সিল-নাজদ গেটওয়ে হোল্ডিং কোম্পানি, আরিফ হাবিব ডলমেন রিট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড এবং পাকিস্তান করপোরেট কনসোর্টিয়ামের মধ্যে এই স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। করাচি পোর্ট ট্রাস্টের মালিকানাধীন এম টি খান রোড সংলগ্ন ১৪০ একর জমিতে এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এই এলাকাকে একটি প্রধান বাণিজ্যিক ও সামুদ্রিক হাব হিসেবে গড়ে তোলাই এর মূল লক্ষ্য।
সমঝোতা স্মারকের আওতায় যেসকল গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে:
আর্থিক ও প্রযুক্তি খাত: আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার অংশ হিসেবে একটি ডিজিটাল ব্যাংকিং পার্ক, ক্রিপ্টো ও ব্লকচেইন জোন এবং একটি আন্তর্জাতিক ইসলামি অর্থায়ন কেন্দ্র ও ব্যাংকিং ইউনিট স্থাপন।
সামুদ্রিক লজিস্টিকস: মেরিন প্রযুক্তি ও লজিস্টিকস জোন, স্মার্ট পোর্ট ইন্টিগ্রেশন জোন, ডিজিটাল কাস্টমস ও শিপিং সেবা চালু এবং সামুদ্রিক সফটওয়্যার উন্নয়নে গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) কার্যক্রম শুরু করা।
অবকাঠামো ও আবাসন: বহুতল আকাশচুম্বী ভবন, আধুনিক কনভেনশন সেন্টার, বিলাসবহুল হোটেল এবং করপোরেট হাব নির্মাণ।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষা: আন্তর্জাতিক মানের বিশেষায়িত হাসপাতাল, একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং সামুদ্রিক ও বাণিজ্য আইনবিষয়ক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন।
আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি ও সৌদির আগ্রহ: বর্তমানে একটি উচ্চপর্যায়ের সৌদি প্রতিনিধিদল পাকিস্তান সফর করছে। এই সফরে গওয়াদর বন্দরে একটি তেল শোধনাগার (Oil Refinery) স্থাপনের প্রস্তাবও আলোচিত হয়েছে এবং পাকিস্তান সৌদি আরবকে তাদের দেশে একটি কৌশলগত তেল মজুতাগার স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছে।
এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) পাকিস্তানের কিছু খনি ইজারা নেওয়ার পরিকল্পনা করার পাশাপাশি করাচির একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর টার্মিনাল ৫০ বছরের চুক্তিতে পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। এরই পিঠে পিঠ দিয়ে এবার সৌদি আরবও পাকিস্তানে তাদের নতুন ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্র প্রস্তুত করছে।
মন্ত্রী জুনাইদ আনোয়ার চৌধুরী বলেন, আধুনিক বাণিজ্যিক অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নগর উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। পাকিস্তানের বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করেই এই রূপান্তরমূলক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

রোববার, ০৭ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুন ২০২৬
পাকিস্তানের করাচিতে একটি অত্যাধুনিক ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ব্লকচেইন জোন প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে সৌদি আরব। একই সঙ্গে দেশটিতে আরও কয়েকটি বৃহৎ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত বিনিয়োগ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। পাকিস্তান সরকার বর্তমানে ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনকে একটি নিয়মতান্ত্রিক আইনি কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে, যেটিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন রয়েছে বলে জানা গেছে।
এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে করাচি বন্দরের জলসীমা সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একটি বিশাল ‘সামুদ্রিক ব্যবসা জেলা’ (Maritime Business District) গড়ে তোলার লক্ষ্যে সৌদি ও পাকিস্তানি অংশীদারদের মধ্যে একটি কৌশলগত সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাকিস্তানের সামুদ্রিকবিষয়ক মন্ত্রী মুহাম্মদ জুনাইদ আনোয়ার চৌধুরী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সমঝোতা স্মারক ও প্রকল্পের বিবরণ: মন্ত্রী জানান, করাচি পোর্ট ট্রাস্ট (KPT), সৌদি বিজনেস কাউন্সিল-নাজদ গেটওয়ে হোল্ডিং কোম্পানি, আরিফ হাবিব ডলমেন রিট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড এবং পাকিস্তান করপোরেট কনসোর্টিয়ামের মধ্যে এই স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। করাচি পোর্ট ট্রাস্টের মালিকানাধীন এম টি খান রোড সংলগ্ন ১৪০ একর জমিতে এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এই এলাকাকে একটি প্রধান বাণিজ্যিক ও সামুদ্রিক হাব হিসেবে গড়ে তোলাই এর মূল লক্ষ্য।
সমঝোতা স্মারকের আওতায় যেসকল গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে:
আর্থিক ও প্রযুক্তি খাত: আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার অংশ হিসেবে একটি ডিজিটাল ব্যাংকিং পার্ক, ক্রিপ্টো ও ব্লকচেইন জোন এবং একটি আন্তর্জাতিক ইসলামি অর্থায়ন কেন্দ্র ও ব্যাংকিং ইউনিট স্থাপন।
সামুদ্রিক লজিস্টিকস: মেরিন প্রযুক্তি ও লজিস্টিকস জোন, স্মার্ট পোর্ট ইন্টিগ্রেশন জোন, ডিজিটাল কাস্টমস ও শিপিং সেবা চালু এবং সামুদ্রিক সফটওয়্যার উন্নয়নে গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) কার্যক্রম শুরু করা।
অবকাঠামো ও আবাসন: বহুতল আকাশচুম্বী ভবন, আধুনিক কনভেনশন সেন্টার, বিলাসবহুল হোটেল এবং করপোরেট হাব নির্মাণ।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষা: আন্তর্জাতিক মানের বিশেষায়িত হাসপাতাল, একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং সামুদ্রিক ও বাণিজ্য আইনবিষয়ক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন।
আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি ও সৌদির আগ্রহ: বর্তমানে একটি উচ্চপর্যায়ের সৌদি প্রতিনিধিদল পাকিস্তান সফর করছে। এই সফরে গওয়াদর বন্দরে একটি তেল শোধনাগার (Oil Refinery) স্থাপনের প্রস্তাবও আলোচিত হয়েছে এবং পাকিস্তান সৌদি আরবকে তাদের দেশে একটি কৌশলগত তেল মজুতাগার স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছে।
এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) পাকিস্তানের কিছু খনি ইজারা নেওয়ার পরিকল্পনা করার পাশাপাশি করাচির একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর টার্মিনাল ৫০ বছরের চুক্তিতে পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। এরই পিঠে পিঠ দিয়ে এবার সৌদি আরবও পাকিস্তানে তাদের নতুন ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্র প্রস্তুত করছে।
মন্ত্রী জুনাইদ আনোয়ার চৌধুরী বলেন, আধুনিক বাণিজ্যিক অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নগর উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। পাকিস্তানের বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করেই এই রূপান্তরমূলক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন