প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর ২৭ ফেব্রুয়ারির যুদ্ধপূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরে গেছে দুই দেশ। তবে এই যুদ্ধটি আসলে কেন হয়েছিল—তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেছে, যা ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির সবচেয়ে বড় ভুল এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তির সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুদ্ধ শুরুর মূল কারণ হিসেবে মূলত তেহরানের শাসনব্যবস্থা পতন এবং তাদের দুর্বল বা ধ্বংস করার একটি অলস ও ভুল অনুমান কাজ করেছিল। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে এই হামলার ফলে তেহরানের শাসনব্যবস্থার পতন ঘটবে এবং তিনি ইরানি জনগণকে তাদের দেশ পুনরুদ্ধারের সুযোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে পরবর্তীতে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের দাবি তোলেন। অন্যদিকে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই যৌথ সামরিক অভিযানকে তাদের দীর্ঘ ৪০ বছরের আকাঙ্ক্ষা তথা সন্ত্রাসী শাসনব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ পরাস্ত করার একটি সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন।
তাদের এই যৌথ রণকৌশলটি ছিল মূলত ভুল অনুমানের ওপর দাঁড়িয়ে, যেখানে তারা ভেবেছিল ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করলেই দেশটির পুরো শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। কিন্তু যুদ্ধের শুরুতে ইসরাইল ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং তার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের হত্যা করলেও ইরানের প্রায় অর্ধশতাব্দী পুরনো আদর্শিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো টিকে থাকে এবং দেশটির নতুন উত্তরসূরিরা অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে নেমে পড়ে।
নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ইরান বৈশ্বিক অর্থনীতির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ এবং বিশ্ব বাজারের এক-পঞ্চমাংশ তেল-গ্যাস সরবরাহের রুট 'হরমুজ প্রণালি' বন্ধ করে দেয়, যা যুদ্ধক্ষেত্রে সবচেয়ে শক্তিশালী ও সস্তা অস্ত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়। হরমুজ প্রণালি বন্ধের এই বিধ্বংসী প্রভাব আরবের তেল উৎপাদনকারী রাষ্ট্রসহ বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দেয় এবং ট্রাম্প প্রশাসনকে ইরানের বন্দর অবরোধ প্রত্যাহার ও তেল রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মতো বড় বড় ছাড় দিয়ে সমঝোতায় বসতে বাধ্য করে।
চূড়ান্ত চুক্তি না হলেও এই সমঝোতা স্মারকটি মূলত দুই দেশের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আগামী ৬০ দিনের একটি জটিল আলোচনা শুরুর চুক্তি, যার ওপর ভিত্তি করে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে ওঠার বিষয়টি নির্ভর করছে।

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর ২৭ ফেব্রুয়ারির যুদ্ধপূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরে গেছে দুই দেশ। তবে এই যুদ্ধটি আসলে কেন হয়েছিল—তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেছে, যা ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির সবচেয়ে বড় ভুল এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তির সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুদ্ধ শুরুর মূল কারণ হিসেবে মূলত তেহরানের শাসনব্যবস্থা পতন এবং তাদের দুর্বল বা ধ্বংস করার একটি অলস ও ভুল অনুমান কাজ করেছিল। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে এই হামলার ফলে তেহরানের শাসনব্যবস্থার পতন ঘটবে এবং তিনি ইরানি জনগণকে তাদের দেশ পুনরুদ্ধারের সুযোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে পরবর্তীতে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের দাবি তোলেন। অন্যদিকে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই যৌথ সামরিক অভিযানকে তাদের দীর্ঘ ৪০ বছরের আকাঙ্ক্ষা তথা সন্ত্রাসী শাসনব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ পরাস্ত করার একটি সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন।
তাদের এই যৌথ রণকৌশলটি ছিল মূলত ভুল অনুমানের ওপর দাঁড়িয়ে, যেখানে তারা ভেবেছিল ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করলেই দেশটির পুরো শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। কিন্তু যুদ্ধের শুরুতে ইসরাইল ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং তার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের হত্যা করলেও ইরানের প্রায় অর্ধশতাব্দী পুরনো আদর্শিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো টিকে থাকে এবং দেশটির নতুন উত্তরসূরিরা অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে নেমে পড়ে।
নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ইরান বৈশ্বিক অর্থনীতির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ এবং বিশ্ব বাজারের এক-পঞ্চমাংশ তেল-গ্যাস সরবরাহের রুট 'হরমুজ প্রণালি' বন্ধ করে দেয়, যা যুদ্ধক্ষেত্রে সবচেয়ে শক্তিশালী ও সস্তা অস্ত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়। হরমুজ প্রণালি বন্ধের এই বিধ্বংসী প্রভাব আরবের তেল উৎপাদনকারী রাষ্ট্রসহ বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দেয় এবং ট্রাম্প প্রশাসনকে ইরানের বন্দর অবরোধ প্রত্যাহার ও তেল রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মতো বড় বড় ছাড় দিয়ে সমঝোতায় বসতে বাধ্য করে।
চূড়ান্ত চুক্তি না হলেও এই সমঝোতা স্মারকটি মূলত দুই দেশের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আগামী ৬০ দিনের একটি জটিল আলোচনা শুরুর চুক্তি, যার ওপর ভিত্তি করে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে ওঠার বিষয়টি নির্ভর করছে।

আপনার মতামত লিখুন