ঢাকা নিউজ

৩৩ বছর ধরে বঞ্চিত অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষকদের মানবেতর জীবন



৩৩ বছর ধরে বঞ্চিত অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষকদের মানবেতর জীবন
ছবি : সংগৃহীত

বেতন-ভাতা ও এমপিও সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন দেশের বেসরকারি কলেজের অনার্স-মাস্টার্স পর্যায়ের প্রায় সাড়ে তিন হাজার শিক্ষক। সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক সমাবেশ থেকে ‘সম্মিলিত নন-এমপিও ঐক্য পরিষদ’ এবং ‘বাংলাদেশ বেসরকারি কলেজ অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক ফেডারেশন’ এই বঞ্চনার অবসান চেয়ে দ্রুত এমপিওভুক্তির দাবি জানিয়েছে।

বক্তারা জানান, ১৯৯২ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে উচ্চশিক্ষার প্রসারে বেসরকারি কলেজগুলোতে অনার্স-মাস্টার্স কোর্স চালু করা হলেও শিক্ষকরা নামমাত্র বেতনে বা বিনা বেতনে পাঠদান করে আসছেন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাদের এমপিওভুক্তির বিষয়ে কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। বিগত সরকারের সময় নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও বর্তমান সরকার তা বাস্তবায়নে অনীহা দেখাচ্ছে বলে শিক্ষক নেতারা অভিযোগ করেন।

সমাবেশে জানানো হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ২১২টি অনার্স কলেজ এবং ৪৬টি মাস্টার্স স্তরের কলেজকে প্রাথমিকভাবে যোগ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছিল। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করতে বছরে প্রায় ১২৫ কোটি টাকার প্রয়োজন বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিরূপণ করেছিল। তবে বর্তমান সরকার পূর্বের সেই তালিকা অনুযায়ী কার্যক্রম এগিয়ে নিতে আগ্রহী নয় বলে দাবি করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা।

সম্মিলিত নন-এমপিও ঐক্য পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক অধ্যক্ষ সেলিম মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমপিও নীতিমালা-২০২১ এ অনার্স-মাস্টার্স স্তরটি অন্তর্ভুক্ত না করায় শিক্ষকদের বঞ্চনার মাত্রা আরও বেড়েছে। সংগঠনের সহ-সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম সতর্ক করে বলেন, আগের সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না হলে হাজার হাজার শিক্ষকের ভবিষ্যৎ চরম অনিশ্চয়তায় পড়বে।

ফেডারেশনের সভাপতি নেকবোর হোসেন বলেন, ৩৩ বছর ধরে বঞ্চনার পর এখন আবার যাচাই-বাছাইয়ের নামে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি করা হচ্ছে। অবিলম্বে দাবি আদায় না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে মানবিক দিক বিবেচনায় তারা প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। দেশের ৬৪ জেলা থেকে আসা কয়েক শত শিক্ষক এই সমাবেশে অংশ নিয়ে তাদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান দাবি করেন।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬


৩৩ বছর ধরে বঞ্চিত অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষকদের মানবেতর জীবন

প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬

featured Image

বেতন-ভাতা ও এমপিও সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন দেশের বেসরকারি কলেজের অনার্স-মাস্টার্স পর্যায়ের প্রায় সাড়ে তিন হাজার শিক্ষক। সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক সমাবেশ থেকে ‘সম্মিলিত নন-এমপিও ঐক্য পরিষদ’ এবং ‘বাংলাদেশ বেসরকারি কলেজ অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক ফেডারেশন’ এই বঞ্চনার অবসান চেয়ে দ্রুত এমপিওভুক্তির দাবি জানিয়েছে।

বক্তারা জানান, ১৯৯২ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে উচ্চশিক্ষার প্রসারে বেসরকারি কলেজগুলোতে অনার্স-মাস্টার্স কোর্স চালু করা হলেও শিক্ষকরা নামমাত্র বেতনে বা বিনা বেতনে পাঠদান করে আসছেন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাদের এমপিওভুক্তির বিষয়ে কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। বিগত সরকারের সময় নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও বর্তমান সরকার তা বাস্তবায়নে অনীহা দেখাচ্ছে বলে শিক্ষক নেতারা অভিযোগ করেন।

সমাবেশে জানানো হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ২১২টি অনার্স কলেজ এবং ৪৬টি মাস্টার্স স্তরের কলেজকে প্রাথমিকভাবে যোগ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছিল। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করতে বছরে প্রায় ১২৫ কোটি টাকার প্রয়োজন বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিরূপণ করেছিল। তবে বর্তমান সরকার পূর্বের সেই তালিকা অনুযায়ী কার্যক্রম এগিয়ে নিতে আগ্রহী নয় বলে দাবি করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা।

সম্মিলিত নন-এমপিও ঐক্য পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক অধ্যক্ষ সেলিম মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমপিও নীতিমালা-২০২১ এ অনার্স-মাস্টার্স স্তরটি অন্তর্ভুক্ত না করায় শিক্ষকদের বঞ্চনার মাত্রা আরও বেড়েছে। সংগঠনের সহ-সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম সতর্ক করে বলেন, আগের সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না হলে হাজার হাজার শিক্ষকের ভবিষ্যৎ চরম অনিশ্চয়তায় পড়বে।

ফেডারেশনের সভাপতি নেকবোর হোসেন বলেন, ৩৩ বছর ধরে বঞ্চনার পর এখন আবার যাচাই-বাছাইয়ের নামে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি করা হচ্ছে। অবিলম্বে দাবি আদায় না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে মানবিক দিক বিবেচনায় তারা প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। দেশের ৬৪ জেলা থেকে আসা কয়েক শত শিক্ষক এই সমাবেশে অংশ নিয়ে তাদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান দাবি করেন।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ