ঢাকা নিউজ

প্রস্রাবের যেসব সাধারণ উপসর্গ হতে পারে নীরব ক্যানসারের আগাম সংকেত



প্রস্রাবের যেসব সাধারণ উপসর্গ হতে পারে নীরব ক্যানসারের আগাম সংকেত
ছবি : সংগৃহীত

প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, ঘন ঘন টয়লেটে যাওয়া কিংবা কোমরে হালকা ব্যথার মতো সমস্যাগুলোকে অনেকেই সাধারণ শারীরিক অসুবিধা মনে করে অবহেলা করেন। কেউ কেউ এটিকে পানিশূন্যতা, বয়স বৃদ্ধি বা সাময়িক সংক্রমণ ভাবলেও চিকিৎসকদের মতে, এসব লক্ষণ কখনো কখনো ব্লাডার, কিডনি, প্রোস্টেট কিংবা ইউরেটারের মতো মূত্রনালির ক্যানসারের নীরব আগাম সতর্কবার্তা হতে পারে। শুরুতে উপসর্গগুলো খুব সূক্ষ্ম হওয়ায় রোগীরা মাসের পর মাস তা গুরুত্ব দেন না, যা পরবর্তীতে চিকিৎসা পদ্ধতিকে আরও কঠিন ও ব্যয়বহুল করে তোলে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, প্রাথমিক পর্যায়ে ব্লাডার ও কিডনি ক্যানসার শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসায় সফলতার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। চিকিৎসকদের মতে, প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া ক্যানসারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বড় সতর্কসংকেত। এমনকি এটি যদি মাত্র একবারের জন্যও ঘটে এবং কোনো ব্যথা নাও থাকে, তবুও বিষয়টি মোটেও অবহেলা করা উচিত নয়।

এছাড়া ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের সময় তীব্র জ্বালাপোড়া, প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা, প্রস্রাবের বেগ বা প্রবাহ দুর্বল হয়ে যাওয়া, রাতে বারবার প্রস্রাবের চাপ এবং তলপেট বা পিঠে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথাও ক্যানসারের লক্ষণ হিসেবে উদ্বেগের কারণ হতে পারে। ভারতের খ্যাতনামা চিকিৎসক ডা. অনিল থাকওয়ানি জানান, এই লক্ষণগুলো সাধারণ ইউরিন ইনফেকশন (ইউটিআই) বা প্রোস্টেট বড় হওয়ার উপসর্গের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। তাই অবহেলা না করে প্রস্রাব পরীক্ষা, স্ক্যান বা সিস্টোস্কোপির মতো পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে ক্যানসারের চিকিৎসা অনেক উন্নত হলেও দ্রুত রোগ শনাক্তকরণই রোগমুক্তির সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি। প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে অস্ত্রোপচার, রেডিয়েশন বা আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে রোগ নিয়ন্ত্রণ তুলনামূলক সহজ হয়। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী—৫০ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তি, ধূমপায়ী, রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে কাজ করা মানুষ এবং পরিবারে মূত্রনালির ক্যানসারের ইতিহাস রয়েছে এমন ব্যক্তিদের এই রোগের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

লজ্জা বা সংকোচের কারণে অনেকেই প্রস্রাবজনিত সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যেতে দেরি করেন। অথচ শরীরের কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন বারবার দেখা দিলে সেটিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। চিকিৎসকদের পরামর্শ—ভবিষ্যতের বড় ঝুঁকি এড়াতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং যেকোনো উপসর্গে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬


প্রস্রাবের যেসব সাধারণ উপসর্গ হতে পারে নীরব ক্যানসারের আগাম সংকেত

প্রকাশের তারিখ : ১৫ মে ২০২৬

featured Image

প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, ঘন ঘন টয়লেটে যাওয়া কিংবা কোমরে হালকা ব্যথার মতো সমস্যাগুলোকে অনেকেই সাধারণ শারীরিক অসুবিধা মনে করে অবহেলা করেন। কেউ কেউ এটিকে পানিশূন্যতা, বয়স বৃদ্ধি বা সাময়িক সংক্রমণ ভাবলেও চিকিৎসকদের মতে, এসব লক্ষণ কখনো কখনো ব্লাডার, কিডনি, প্রোস্টেট কিংবা ইউরেটারের মতো মূত্রনালির ক্যানসারের নীরব আগাম সতর্কবার্তা হতে পারে। শুরুতে উপসর্গগুলো খুব সূক্ষ্ম হওয়ায় রোগীরা মাসের পর মাস তা গুরুত্ব দেন না, যা পরবর্তীতে চিকিৎসা পদ্ধতিকে আরও কঠিন ও ব্যয়বহুল করে তোলে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, প্রাথমিক পর্যায়ে ব্লাডার ও কিডনি ক্যানসার শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসায় সফলতার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। চিকিৎসকদের মতে, প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া ক্যানসারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বড় সতর্কসংকেত। এমনকি এটি যদি মাত্র একবারের জন্যও ঘটে এবং কোনো ব্যথা নাও থাকে, তবুও বিষয়টি মোটেও অবহেলা করা উচিত নয়।

এছাড়া ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের সময় তীব্র জ্বালাপোড়া, প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা, প্রস্রাবের বেগ বা প্রবাহ দুর্বল হয়ে যাওয়া, রাতে বারবার প্রস্রাবের চাপ এবং তলপেট বা পিঠে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথাও ক্যানসারের লক্ষণ হিসেবে উদ্বেগের কারণ হতে পারে। ভারতের খ্যাতনামা চিকিৎসক ডা. অনিল থাকওয়ানি জানান, এই লক্ষণগুলো সাধারণ ইউরিন ইনফেকশন (ইউটিআই) বা প্রোস্টেট বড় হওয়ার উপসর্গের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। তাই অবহেলা না করে প্রস্রাব পরীক্ষা, স্ক্যান বা সিস্টোস্কোপির মতো পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে ক্যানসারের চিকিৎসা অনেক উন্নত হলেও দ্রুত রোগ শনাক্তকরণই রোগমুক্তির সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি। প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে অস্ত্রোপচার, রেডিয়েশন বা আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে রোগ নিয়ন্ত্রণ তুলনামূলক সহজ হয়। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী—৫০ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তি, ধূমপায়ী, রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে কাজ করা মানুষ এবং পরিবারে মূত্রনালির ক্যানসারের ইতিহাস রয়েছে এমন ব্যক্তিদের এই রোগের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

লজ্জা বা সংকোচের কারণে অনেকেই প্রস্রাবজনিত সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যেতে দেরি করেন। অথচ শরীরের কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন বারবার দেখা দিলে সেটিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। চিকিৎসকদের পরামর্শ—ভবিষ্যতের বড় ঝুঁকি এড়াতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং যেকোনো উপসর্গে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ