মালয়েশিয়াজুড়ে ইমিগ্রেশন সিস্টেমে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে বৃহস্পতিবার ভোরে কয়েক ঘণ্টা ধরে চরম দুর্ভোগে পড়েন হাজারো যাত্রী ও সীমান্ত পারাপারকারী কর্মজীবী মানুষ। বিশেষ করে জোহর-সিঙ্গাপুর স্থলসীমান্তে দীর্ঘ সারি, তীব্র যানজট এবং বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ভোর সাড়ে ৪টা থেকে সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের কম্পিউটারভিত্তিক সব সিস্টেম অচল হয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে কর্মকর্তাদের হাতে-কলমে পাসপোর্ট যাচাই ও যাত্রী ছাড়পত্র দিতে হয়। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি হয় জোহরের দুই প্রধান স্থল সীমান্ত চেকপয়েন্ট সুলতান ইস্কান্দার বিল্ডিং (বিএসআই) এবং সুলতান আবু বকর কমপ্লেক্সে (কেএসএবি), যা প্রতিদিন হাজারো মালয়েশিয়ান নাগরিক সিঙ্গাপুরে কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য ব্যবহার করেন।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ভোরের অত্যন্ত ব্যস্ত সময়ে বিপুলসংখ্যক কর্মজীবী মানুষ সিঙ্গাপুরে প্রবেশের জন্য সীমান্তে ভিড় করলে ইমিগ্রেশন বিভাগের সব কর্মীকে ম্যানুয়াল কাউন্টারে দায়িত্ব পালন করতে হয়। তিনি উল্লেখ করেন, সেই সময় অটো-গেট ও মুখাবয়ব শনাক্তকরণ ব্যবস্থা কাজ না করায় বাস টার্মিনাল, মোটরসাইকেল ও যানবাহনের লেনে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করতে হয়েছিল।
মালয়েশিয়ার ১১৪টি ইমিগ্রেশন প্রবেশপথের অধিকাংশ চেকপয়েন্টে এই প্রযুক্তিগত ত্রুটির প্রভাব পড়ে এবং এটি গত এক মাসের মধ্যে দ্বিতীয় বড় ধরনের ইমিগ্রেশন সিস্টেম বিভ্রাট। এর আগে গত ২৩ এপ্রিলও একই ধরনের সমস্যায় কয়েক হাজার যাত্রী প্রায় দুই ঘণ্টা আটকা পড়েছিলেন।
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান জানান, সকাল ৫টা থেকে ৮টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত ‘মাইআইএমএমএস’ (MyIMMs) ডাটা সেন্টারে প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে এই বিভ্রাট ঘটে এবং পরে মেরামত কাজ শেষ হলে সিস্টেম আবার সচল হয়। তিনি স্পষ্ট করেন যে সিস্টেমটি হ্যাক হয়নি, বরং এটি প্রায় ৩০ বছর পুরোনো একটি ব্যবস্থা হওয়ায় মাঝে-মধ্যেই সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
সরকার জানিয়েছে, পুরোনো এই ব্যবস্থার পরিবর্তে ২০২৮ সালের মধ্যে আধুনিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘ন্যাশনাল ইন্টিগ্রেটেড ইমিগ্রেশন সিস্টেম’ (NIISe) চালু করা হবে, তবে নতুন ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু না হওয়া পর্যন্ত এমন সমস্যা আবারও ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জাকারিয়া শাবান। এদিকে আগামী বছর চালু হতে যাওয়া জোহর বাহরু-সিঙ্গাপুর র্যাপিড ট্রানজিট সিস্টেম (RTS)-এর আগে নতুন ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকি মোকাবিলা পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবারের এই বিভ্রাটে সীমান্ত পারাপারকারী বহু মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং সেখানে দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষমাণ যাত্রী ও তীব্র যানজটের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সিঙ্গাপুরগামী মালয়েশিয়ান কর্মজীবীরা জানান, কিউআর কোড স্ক্যানার ও অটোমেটিক পাসপোর্ট গেট কাজ না করায় প্রচণ্ড গরম ও ভিড়ের মধ্যে ম্যানুয়াল কাউন্টারে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তাদের চরম হতাশাজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ মে ২০২৬
মালয়েশিয়াজুড়ে ইমিগ্রেশন সিস্টেমে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে বৃহস্পতিবার ভোরে কয়েক ঘণ্টা ধরে চরম দুর্ভোগে পড়েন হাজারো যাত্রী ও সীমান্ত পারাপারকারী কর্মজীবী মানুষ। বিশেষ করে জোহর-সিঙ্গাপুর স্থলসীমান্তে দীর্ঘ সারি, তীব্র যানজট এবং বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ভোর সাড়ে ৪টা থেকে সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের কম্পিউটারভিত্তিক সব সিস্টেম অচল হয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে কর্মকর্তাদের হাতে-কলমে পাসপোর্ট যাচাই ও যাত্রী ছাড়পত্র দিতে হয়। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি হয় জোহরের দুই প্রধান স্থল সীমান্ত চেকপয়েন্ট সুলতান ইস্কান্দার বিল্ডিং (বিএসআই) এবং সুলতান আবু বকর কমপ্লেক্সে (কেএসএবি), যা প্রতিদিন হাজারো মালয়েশিয়ান নাগরিক সিঙ্গাপুরে কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য ব্যবহার করেন।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ভোরের অত্যন্ত ব্যস্ত সময়ে বিপুলসংখ্যক কর্মজীবী মানুষ সিঙ্গাপুরে প্রবেশের জন্য সীমান্তে ভিড় করলে ইমিগ্রেশন বিভাগের সব কর্মীকে ম্যানুয়াল কাউন্টারে দায়িত্ব পালন করতে হয়। তিনি উল্লেখ করেন, সেই সময় অটো-গেট ও মুখাবয়ব শনাক্তকরণ ব্যবস্থা কাজ না করায় বাস টার্মিনাল, মোটরসাইকেল ও যানবাহনের লেনে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করতে হয়েছিল।
মালয়েশিয়ার ১১৪টি ইমিগ্রেশন প্রবেশপথের অধিকাংশ চেকপয়েন্টে এই প্রযুক্তিগত ত্রুটির প্রভাব পড়ে এবং এটি গত এক মাসের মধ্যে দ্বিতীয় বড় ধরনের ইমিগ্রেশন সিস্টেম বিভ্রাট। এর আগে গত ২৩ এপ্রিলও একই ধরনের সমস্যায় কয়েক হাজার যাত্রী প্রায় দুই ঘণ্টা আটকা পড়েছিলেন।
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান জানান, সকাল ৫টা থেকে ৮টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত ‘মাইআইএমএমএস’ (MyIMMs) ডাটা সেন্টারে প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে এই বিভ্রাট ঘটে এবং পরে মেরামত কাজ শেষ হলে সিস্টেম আবার সচল হয়। তিনি স্পষ্ট করেন যে সিস্টেমটি হ্যাক হয়নি, বরং এটি প্রায় ৩০ বছর পুরোনো একটি ব্যবস্থা হওয়ায় মাঝে-মধ্যেই সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
সরকার জানিয়েছে, পুরোনো এই ব্যবস্থার পরিবর্তে ২০২৮ সালের মধ্যে আধুনিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘ন্যাশনাল ইন্টিগ্রেটেড ইমিগ্রেশন সিস্টেম’ (NIISe) চালু করা হবে, তবে নতুন ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু না হওয়া পর্যন্ত এমন সমস্যা আবারও ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জাকারিয়া শাবান। এদিকে আগামী বছর চালু হতে যাওয়া জোহর বাহরু-সিঙ্গাপুর র্যাপিড ট্রানজিট সিস্টেম (RTS)-এর আগে নতুন ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকি মোকাবিলা পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবারের এই বিভ্রাটে সীমান্ত পারাপারকারী বহু মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং সেখানে দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষমাণ যাত্রী ও তীব্র যানজটের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সিঙ্গাপুরগামী মালয়েশিয়ান কর্মজীবীরা জানান, কিউআর কোড স্ক্যানার ও অটোমেটিক পাসপোর্ট গেট কাজ না করায় প্রচণ্ড গরম ও ভিড়ের মধ্যে ম্যানুয়াল কাউন্টারে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তাদের চরম হতাশাজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন