২০২১ সালের বহুল আলোচিত নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের রয়্যাল রিসোর্টকাণ্ডের দীর্ঘ পাঁচ বছর পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে মুখ খুলেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা মাওলানা মামুনুল হক। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য খোন্দকার আবু আশফাক তাঁর এই রিসোর্টকাণ্ড ও ‘মুতা বিয়ে’ নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার (২০Mapped জুন) নিজের ফেসবুক পেজে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন তিনি।
পোস্টে তিনি দাবি করেন, রয়্যাল রিসোর্টের ‘৫০১’ নম্বর কক্ষের সেই ঘটনাটি ছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের একটি ব্যর্থ রাজনৈতিক প্রজেক্ট, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল তাঁকে রাজনৈতিক ও আদর্শগতভাবে ধ্বংস করা।
রিসোর্টকাণ্ডের দিনের বিবরণ ও হেনস্তার অভিযোগ মামুনুল হক লিখেছেন, ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল তিনি তাঁর স্ত্রী জান্নাত আরাকে (ঝর্ণা) নিয়ে রিসোর্টের ৫০১ নম্বর কক্ষে অবস্থান করছিলেন। সে সময় পুলিশ, স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও কিছু সংবাদকর্মী জোরপূর্বক কক্ষে প্রবেশ করে তাঁদের হেনস্তা করেন এবং বিভিন্ন ডিভাইসের মাধ্যমে লাইভ সম্প্রচার শুরু করেন। পরিস্থিতি থেকে বাঁচাতে তিনি স্ত্রীকে ওয়াশরুমে রাখলেও নারী পুলিশ সদস্যরা সেখানে প্রবেশ করে লাইভ করেন। তিনি জানান, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁরা উভয়েই বৈবাহিক সম্পর্কের কথা জানালেও পরে গোয়েন্দা সংস্থা (ডিজিএফআই)-এর নির্দেশে তাঁদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
জান্নাত আরার সঙ্গে বিয়ে ও বিচ্ছেদ প্রসঙ্গ বিয়ে নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে মামুনুল হক জানান, জান্নাত আরা মূলত তাঁর ঘনিষ্ঠ সহকর্মী হাফেজ শহিদুল ইসলামের সাবেক স্ত্রী ছিলেন। পারস্পরিক সম্মতিতে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদের পর জান্নাত আরার প্রস্তাবেই শরীয়ত অনুযায়ী তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। সামাজিকভাবে জটিলতা এড়াতে এবং প্রথম পরিবারে অস্থিরতা রোধ করতে এই বিয়ে গোপন রাখা হয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, ইসলামে লিখিত কাবিন বাধ্যতামূলক না হওয়ায় প্রথম বিয়ের মতো এই বিয়েতেও কোনো কাবিননামা ছিল না।
তিনি আরও প্রকাশ করেন যে, ২০১৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তাঁদের বৈবাহিক সম্পর্ক স্থায়ী ছিল। তবে ২০২১ সালের সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর তৈরি হওয়া বিভিন্ন মনোমালিন্যের কারণে অবশেষে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছেদ ঘটে। বিচ্ছেদের আগ পর্যন্ত এবং কারাবাসকালেও তিনি জান্নাত আরার যাবতীয় ভরণপোষণ নিশ্চিত করেছিলেন বলে দাবি করেন।
অন্য নাম ব্যবহার ও ফোনালাপের ব্যাখ্যা রিসোর্টের রেজিস্টারে অন্য নাম ব্যবহারের বিষয়ে তিনি জানান, তাঁদের নিজস্ব পরিচয়পত্রে সাবেক স্বামী ও প্রথম স্ত্রীর নাম উল্লেখ থাকায় জটিলতা এড়াতে তাঁরা আলোচনার ভিত্তিতে আমিনা তাইয়্যেবা (প্রথম স্ত্রী) নাম ব্যবহার করেছিলেন। এছাড়া ঘটনার পর প্রথম স্ত্রীকে ফোনে শান্ত রাখার জন্য জান্নাত আরাকে ‘শহিদুল ইসলামের স্ত্রী’ হিসেবে সাময়িকভাবে পরিচয় দিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন।
‘মুতা বিয়ে’র অভিযোগ অস্বীকার ও চ্যালেঞ্জ তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা ‘চুক্তিভিত্তিক বিয়ে’ বা ‘মুতা বিয়ে’র অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে মামুনুল হক বলেন, তাঁদের বিয়েটি ছিল শতভাগ শরীয়তসম্মত। নিজের বক্তব্যকে সত্য প্রমাণ করতে তিনি পবিত্র কুরআনের সূরা আল ইমরানের ৬১ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত করে কুৎসা রটনাকারীদের বিরুদ্ধে ‘মুবাহালা’ (পরস্পরকে মিথ্যাবাদী প্রমাণ করার ধর্মীয় চ্যালেঞ্জ)-এর আহ্বান জানান।
‘৫০১’ এখন বিজয়ের প্রতীক পোস্টের শেষাংশে মামুনুল হক ঘোষণা করেন, ‘৫০১’ নম্বর কক্ষের ঘটনাটি এখন আর তাঁর কাছে কোনো নেতিবাচক বা লজ্জার বিষয় নয়। বরং এটি তৎকালীন ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তাঁর দোসরদের পরাজয়ের দলিল’। তাই ‘৫০১’-কে এখন থেকে তাঁরা বিজয়ের প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করছেন এবং ভবিষ্যতে এটি উদযাপন করবেন বলেও তিনি তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন।

শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬
২০২১ সালের বহুল আলোচিত নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের রয়্যাল রিসোর্টকাণ্ডের দীর্ঘ পাঁচ বছর পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে মুখ খুলেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা মাওলানা মামুনুল হক। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য খোন্দকার আবু আশফাক তাঁর এই রিসোর্টকাণ্ড ও ‘মুতা বিয়ে’ নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার (২০Mapped জুন) নিজের ফেসবুক পেজে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন তিনি।
পোস্টে তিনি দাবি করেন, রয়্যাল রিসোর্টের ‘৫০১’ নম্বর কক্ষের সেই ঘটনাটি ছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের একটি ব্যর্থ রাজনৈতিক প্রজেক্ট, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল তাঁকে রাজনৈতিক ও আদর্শগতভাবে ধ্বংস করা।
রিসোর্টকাণ্ডের দিনের বিবরণ ও হেনস্তার অভিযোগ মামুনুল হক লিখেছেন, ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল তিনি তাঁর স্ত্রী জান্নাত আরাকে (ঝর্ণা) নিয়ে রিসোর্টের ৫০১ নম্বর কক্ষে অবস্থান করছিলেন। সে সময় পুলিশ, স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও কিছু সংবাদকর্মী জোরপূর্বক কক্ষে প্রবেশ করে তাঁদের হেনস্তা করেন এবং বিভিন্ন ডিভাইসের মাধ্যমে লাইভ সম্প্রচার শুরু করেন। পরিস্থিতি থেকে বাঁচাতে তিনি স্ত্রীকে ওয়াশরুমে রাখলেও নারী পুলিশ সদস্যরা সেখানে প্রবেশ করে লাইভ করেন। তিনি জানান, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁরা উভয়েই বৈবাহিক সম্পর্কের কথা জানালেও পরে গোয়েন্দা সংস্থা (ডিজিএফআই)-এর নির্দেশে তাঁদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
জান্নাত আরার সঙ্গে বিয়ে ও বিচ্ছেদ প্রসঙ্গ বিয়ে নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে মামুনুল হক জানান, জান্নাত আরা মূলত তাঁর ঘনিষ্ঠ সহকর্মী হাফেজ শহিদুল ইসলামের সাবেক স্ত্রী ছিলেন। পারস্পরিক সম্মতিতে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদের পর জান্নাত আরার প্রস্তাবেই শরীয়ত অনুযায়ী তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। সামাজিকভাবে জটিলতা এড়াতে এবং প্রথম পরিবারে অস্থিরতা রোধ করতে এই বিয়ে গোপন রাখা হয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, ইসলামে লিখিত কাবিন বাধ্যতামূলক না হওয়ায় প্রথম বিয়ের মতো এই বিয়েতেও কোনো কাবিননামা ছিল না।
তিনি আরও প্রকাশ করেন যে, ২০১৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তাঁদের বৈবাহিক সম্পর্ক স্থায়ী ছিল। তবে ২০২১ সালের সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর তৈরি হওয়া বিভিন্ন মনোমালিন্যের কারণে অবশেষে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছেদ ঘটে। বিচ্ছেদের আগ পর্যন্ত এবং কারাবাসকালেও তিনি জান্নাত আরার যাবতীয় ভরণপোষণ নিশ্চিত করেছিলেন বলে দাবি করেন।
অন্য নাম ব্যবহার ও ফোনালাপের ব্যাখ্যা রিসোর্টের রেজিস্টারে অন্য নাম ব্যবহারের বিষয়ে তিনি জানান, তাঁদের নিজস্ব পরিচয়পত্রে সাবেক স্বামী ও প্রথম স্ত্রীর নাম উল্লেখ থাকায় জটিলতা এড়াতে তাঁরা আলোচনার ভিত্তিতে আমিনা তাইয়্যেবা (প্রথম স্ত্রী) নাম ব্যবহার করেছিলেন। এছাড়া ঘটনার পর প্রথম স্ত্রীকে ফোনে শান্ত রাখার জন্য জান্নাত আরাকে ‘শহিদুল ইসলামের স্ত্রী’ হিসেবে সাময়িকভাবে পরিচয় দিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন।
‘মুতা বিয়ে’র অভিযোগ অস্বীকার ও চ্যালেঞ্জ তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা ‘চুক্তিভিত্তিক বিয়ে’ বা ‘মুতা বিয়ে’র অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে মামুনুল হক বলেন, তাঁদের বিয়েটি ছিল শতভাগ শরীয়তসম্মত। নিজের বক্তব্যকে সত্য প্রমাণ করতে তিনি পবিত্র কুরআনের সূরা আল ইমরানের ৬১ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত করে কুৎসা রটনাকারীদের বিরুদ্ধে ‘মুবাহালা’ (পরস্পরকে মিথ্যাবাদী প্রমাণ করার ধর্মীয় চ্যালেঞ্জ)-এর আহ্বান জানান।
‘৫০১’ এখন বিজয়ের প্রতীক পোস্টের শেষাংশে মামুনুল হক ঘোষণা করেন, ‘৫০১’ নম্বর কক্ষের ঘটনাটি এখন আর তাঁর কাছে কোনো নেতিবাচক বা লজ্জার বিষয় নয়। বরং এটি তৎকালীন ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তাঁর দোসরদের পরাজয়ের দলিল’। তাই ‘৫০১’-কে এখন থেকে তাঁরা বিজয়ের প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করছেন এবং ভবিষ্যতে এটি উদযাপন করবেন বলেও তিনি তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন।

আপনার মতামত লিখুন