বগুড়া-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের জেরে দায়ের করা মামলায় ‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রেজানুর ইসলামকে (৪০) গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কামাল হোসেন শুনানি শেষে তাঁকে জেলা হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং আগামী রোববার (২২ জুন) পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘ভুল ও বিভ্রান্তিকর’ তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ এনে গত ১৫ জুন বগুড়া প্রেস ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ এবং ‘দি নিউ নেশন’ পত্রিকার উত্তরাঞ্চলীয় প্রতিনিধি তানভীর আলম রিমন বাদী হয়ে বগুড়া আদালতে এই মামলাটি করেন। মামলায় ২-৩ জনকে অজ্ঞাতসহ মোট ৬ জন সাংবাদিককে আসামি করা হয়েছে। আসামিরা হলেন: ১. মেহেদী হাসান (প্রকাশক ও সম্পাদক)
২. রেজানুর ইসলাম (ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক — বর্তমানে গ্রেপ্তার)
৩. আশরাফ আলী ফারুকী (বার্তা সম্পাদক)
৪. সালেহ কায়সার (প্রতিবেদক)
৫. মো. শামস (বগুড়া প্রতিবেদক)
৬. সাব্বির হাসান (বগুড়া জেলা প্রতিনিধি)
মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১২ জুন বগুড়া প্রেস ক্লাবে প্রতিমন্ত্রীর একটি বক্তব্যকে বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘সাংবাদিক ছিলেন দাবি করে এবার সাংবাদিকদের উপদেশ দিলেন ‘রাস্তাকান্ডে’ বিতর্কিত প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলম’ শিরোনামে মানহানিকর পোস্ট দেওয়া হয়। এছাড়া ১৩ জুন প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় সফর উপলক্ষে প্রতিমন্ত্রীকে জড়িয়ে উসকানিমূলক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণহীন খবর প্রচার করে তাঁর ব্যক্তিগত ও সামাজিক সুনাম ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।
আদালতের নির্দেশে বগুড়া সদর থানা পুলিশ প্রথমে দণ্ডবিধির ৫০০, ৫০১, ৫০৪ ও ১০৯ ধারায় এবং পরবর্তীতে নবগঠিত সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬-এর বিভিন্ন ধারায় মামলাটি রেকর্ড করে। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় বগুড়া ডিবি পুলিশকে।
বগুড়া ডিবি পুলিশের ওসি ইকবাল বাহার জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে গাজীপুর জেলার গাছা উপজেলার বোর্ড বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার ২ নম্বর আসামি রেজানুর ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি গাজীপুরের জয়দেবপুর উপজেলার বসুরা এলাকার জলিল মিয়ার ছেলে।
কোনো প্রকার পূর্ব-তদন্ত ছাড়াই অত্যন্ত তড়িঘড়ি করে একজন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদককে গ্রেপ্তারের ঘটনায় স্থানীয় ও পেশাদার সাংবাদিকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে।
‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার শফিক শাহীন অভিযোগ করে বলেন, "কোনো সংবাদে মানহানি হলে তার দায় সংশ্লিষ্ট রিপোর্টার বা মূল সম্পাদকের ওপর বর্তায়, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এর সাথে সম্পৃক্ত নন। এছাড়া সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা প্রথমে প্রেস কাউন্সিলে যাওয়ার নিয়ম। কিন্তু পুলিশ অতি-উৎসাহী হয়ে তদন্ত ছাড়াই চোর-খুনির মতো টেনেহিঁচড়ে রেজানুর ইসলামকে গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে, এমনকি তাঁর পরিবারকে কথা বলার সুযোগও দেয়নি।"
তিনি আরও জানান, আগামী রোববার আদালতের শুনানিতে তাঁরা রেজানুর ইসলামের জন্য যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় জামিনের আবেদন করবেন এবং আশা করছেন আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করবেন।

শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬
বগুড়া-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের জেরে দায়ের করা মামলায় ‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রেজানুর ইসলামকে (৪০) গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কামাল হোসেন শুনানি শেষে তাঁকে জেলা হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং আগামী রোববার (২২ জুন) পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘ভুল ও বিভ্রান্তিকর’ তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ এনে গত ১৫ জুন বগুড়া প্রেস ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ এবং ‘দি নিউ নেশন’ পত্রিকার উত্তরাঞ্চলীয় প্রতিনিধি তানভীর আলম রিমন বাদী হয়ে বগুড়া আদালতে এই মামলাটি করেন। মামলায় ২-৩ জনকে অজ্ঞাতসহ মোট ৬ জন সাংবাদিককে আসামি করা হয়েছে। আসামিরা হলেন: ১. মেহেদী হাসান (প্রকাশক ও সম্পাদক)
২. রেজানুর ইসলাম (ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক — বর্তমানে গ্রেপ্তার)
৩. আশরাফ আলী ফারুকী (বার্তা সম্পাদক)
৪. সালেহ কায়সার (প্রতিবেদক)
৫. মো. শামস (বগুড়া প্রতিবেদক)
৬. সাব্বির হাসান (বগুড়া জেলা প্রতিনিধি)
মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১২ জুন বগুড়া প্রেস ক্লাবে প্রতিমন্ত্রীর একটি বক্তব্যকে বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘সাংবাদিক ছিলেন দাবি করে এবার সাংবাদিকদের উপদেশ দিলেন ‘রাস্তাকান্ডে’ বিতর্কিত প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলম’ শিরোনামে মানহানিকর পোস্ট দেওয়া হয়। এছাড়া ১৩ জুন প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় সফর উপলক্ষে প্রতিমন্ত্রীকে জড়িয়ে উসকানিমূলক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণহীন খবর প্রচার করে তাঁর ব্যক্তিগত ও সামাজিক সুনাম ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।
আদালতের নির্দেশে বগুড়া সদর থানা পুলিশ প্রথমে দণ্ডবিধির ৫০০, ৫০১, ৫০৪ ও ১০৯ ধারায় এবং পরবর্তীতে নবগঠিত সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬-এর বিভিন্ন ধারায় মামলাটি রেকর্ড করে। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় বগুড়া ডিবি পুলিশকে।
বগুড়া ডিবি পুলিশের ওসি ইকবাল বাহার জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে গাজীপুর জেলার গাছা উপজেলার বোর্ড বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার ২ নম্বর আসামি রেজানুর ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি গাজীপুরের জয়দেবপুর উপজেলার বসুরা এলাকার জলিল মিয়ার ছেলে।
কোনো প্রকার পূর্ব-তদন্ত ছাড়াই অত্যন্ত তড়িঘড়ি করে একজন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদককে গ্রেপ্তারের ঘটনায় স্থানীয় ও পেশাদার সাংবাদিকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে।
‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার শফিক শাহীন অভিযোগ করে বলেন, "কোনো সংবাদে মানহানি হলে তার দায় সংশ্লিষ্ট রিপোর্টার বা মূল সম্পাদকের ওপর বর্তায়, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এর সাথে সম্পৃক্ত নন। এছাড়া সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা প্রথমে প্রেস কাউন্সিলে যাওয়ার নিয়ম। কিন্তু পুলিশ অতি-উৎসাহী হয়ে তদন্ত ছাড়াই চোর-খুনির মতো টেনেহিঁচড়ে রেজানুর ইসলামকে গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে, এমনকি তাঁর পরিবারকে কথা বলার সুযোগও দেয়নি।"
তিনি আরও জানান, আগামী রোববার আদালতের শুনানিতে তাঁরা রেজানুর ইসলামের জন্য যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় জামিনের আবেদন করবেন এবং আশা করছেন আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করবেন।

আপনার মতামত লিখুন