ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চলমান সংঘাতের মধ্যে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ও সিআইএ-র এক গোপন প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস হয়েছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস হওয়ার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্য দাবি বাস্তব পরিস্থিতির সম্পূর্ণ বিপরীত। দীর্ঘমেয়াদী হামলা সত্ত্বেও ইরানের ৭০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ অক্ষত রয়েছে এবং তাদের ৩৩টি ভূগর্ভস্থ ঘাঁটির মধ্যে ৩০টিই বর্তমানে পুরোপুরি সচল।সামরিক শক্তির এই পুনরুদ্ধার মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলোকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। অন্যদিকে, গত কয়েক মাসের যুদ্ধে অস্বাভাবিক পরিমাণ স্টিলথ ক্রুজ মিসাইল, টমাহক ও প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ব্যবহারের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অস্ত্রের মজুদ সংকটের মুখে পড়েছে। পেন্টাগন যুদ্ধের ব্যয় ২৯ বিলিয়ন ডলার দেখালেও বিশেষজ্ঞরা এই ক্ষতির পরিমাণ ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন।উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরান নিজেদের বিজয়ী শক্তি দাবি করে শান্তির জন্য পাঁচটি কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়েছে। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে লেবানন ও গাজায় যুদ্ধ বন্ধ, সকল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দকৃত সম্পদ ফেরত এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকারের স্বীকৃতি। ট্রাম্প প্রশাসন এসব শর্ত প্রত্যাখ্যান করলেও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ওয়াশিংটন বর্তমানে এক গভীর কৌশলগত অচলাবস্থায় রয়েছে।বর্তমানে হোয়াইট হাউস অভ্যন্তরীণভাবে অস্থির পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যারা ইরানের সামরিক সাফল্যের প্রকৃত তথ্য সামনে আনছেন, তাদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেতিবাচকভাবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। এই বাস্তবতায় চীন বর্তমানে পাকিস্তানসহ অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তিকে মধ্যস্থতার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে হরমুজ প্রণালীতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।