কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার দক্ষিণ অনন্তপুর নাজিরহাট সীমান্তে দিনভর পুশইন-পুশব্যাক নাটকীয়তার পর অবশেষে জয়নাব বেগম (৯) নামের এক বাংলাদেশি শিশুকে রাতে ফেরত নিয়েছে বিজিবি। শিশুটি মধ্য কাশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং মধ্যকাশিপুর ঘগোয়ারপাড় গ্রামের জামাল হোসেনের কন্যা।
শনিবার দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে সীমান্তের আন্তর্জাতিক মেইন পিলার ৯৪৩-এর ৩ এস-এর কাছাকাছি বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে এক সংক্ষিপ্ত পতাকা বৈঠকের পর শিশুটিকে ফেরত নেওয়া হয়। পতাকা বৈঠকে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন কাশিপুর বিওপির সুবেদার ইব্রাহিম বিজিবি দলের নেতৃত্ব দেন। পরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মানিক ও ইউপি সদস্য ফেরদৌস আলমের উপস্থিতিতে শিশুটিকে তার বাবা-মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
কাশিপুর ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মানিক জানান, শনিবার দুপুর ১টার দিকে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলারের কাছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ওই কন্যাশিশুকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা (পুশইন) করে। বিএসএফের এমন প্রচেষ্টার বিপরীতে শক্ত অবস্থান নেয় বিজিবি। শিশুটিকে কেন্দ্র করে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পুশইন-পুশব্যাক নাটক চলে। পরে শেষ বিকালের দিকে বিএসএফ শিশুটিকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
এদিকে শিশুটির মা নাজমা বেগম তার সন্তানকে খুঁজতে খুঁজতে সীমান্তে এসে জানতে পারেন বিএসএফের হাতে এক কন্যাশিশু আটক হয়েছে এবং পরে তিনি নিশ্চিত হন সেটি তারই সন্তান। শিশুটি বাংলাদেশি—এমন তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর বিজিবি বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করে পতাকা বৈঠকের উদ্যোগ নেয়। রাত ১১টা ৩০ মিনিটে শুরু হওয়া ১৫ মিনিটের এই বৈঠক শেষে শিশুটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বেলা ১১টার দিকে স্কুলে পাঠানোর সময় জয়নাব খাবারের বায়না ধরলে মা খাবার না দিয়েই তাকে স্কুলে পাঠান। পরে দুপুর ১২টায় সে খাবারের জন্য বাড়ি এলে তার বাবা স্কুল ফেলে আসার কারণে রাগারাগি করেন এবং স্কুল শেষ করে এসে খাবার খেতে বলেন। এতে শিশুটি অভিমান করে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের কোচবিহার জেলার দিনহাটা থানার সেউটি এলাকায় ঢুকে পড়ে এবং বিএসএফের হাতে আটক হয়। প্রথমে বিজিবি একে অবৈধ পুশইন মনে করে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানালেও পরে প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত হয়ে তাকে উদ্ধার করে।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার দক্ষিণ অনন্তপুর নাজিরহাট সীমান্তে দিনভর পুশইন-পুশব্যাক নাটকীয়তার পর অবশেষে জয়নাব বেগম (৯) নামের এক বাংলাদেশি শিশুকে রাতে ফেরত নিয়েছে বিজিবি। শিশুটি মধ্য কাশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং মধ্যকাশিপুর ঘগোয়ারপাড় গ্রামের জামাল হোসেনের কন্যা।
শনিবার দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে সীমান্তের আন্তর্জাতিক মেইন পিলার ৯৪৩-এর ৩ এস-এর কাছাকাছি বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে এক সংক্ষিপ্ত পতাকা বৈঠকের পর শিশুটিকে ফেরত নেওয়া হয়। পতাকা বৈঠকে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন কাশিপুর বিওপির সুবেদার ইব্রাহিম বিজিবি দলের নেতৃত্ব দেন। পরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মানিক ও ইউপি সদস্য ফেরদৌস আলমের উপস্থিতিতে শিশুটিকে তার বাবা-মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
কাশিপুর ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মানিক জানান, শনিবার দুপুর ১টার দিকে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলারের কাছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ওই কন্যাশিশুকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা (পুশইন) করে। বিএসএফের এমন প্রচেষ্টার বিপরীতে শক্ত অবস্থান নেয় বিজিবি। শিশুটিকে কেন্দ্র করে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পুশইন-পুশব্যাক নাটক চলে। পরে শেষ বিকালের দিকে বিএসএফ শিশুটিকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
এদিকে শিশুটির মা নাজমা বেগম তার সন্তানকে খুঁজতে খুঁজতে সীমান্তে এসে জানতে পারেন বিএসএফের হাতে এক কন্যাশিশু আটক হয়েছে এবং পরে তিনি নিশ্চিত হন সেটি তারই সন্তান। শিশুটি বাংলাদেশি—এমন তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর বিজিবি বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করে পতাকা বৈঠকের উদ্যোগ নেয়। রাত ১১টা ৩০ মিনিটে শুরু হওয়া ১৫ মিনিটের এই বৈঠক শেষে শিশুটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বেলা ১১টার দিকে স্কুলে পাঠানোর সময় জয়নাব খাবারের বায়না ধরলে মা খাবার না দিয়েই তাকে স্কুলে পাঠান। পরে দুপুর ১২টায় সে খাবারের জন্য বাড়ি এলে তার বাবা স্কুল ফেলে আসার কারণে রাগারাগি করেন এবং স্কুল শেষ করে এসে খাবার খেতে বলেন। এতে শিশুটি অভিমান করে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের কোচবিহার জেলার দিনহাটা থানার সেউটি এলাকায় ঢুকে পড়ে এবং বিএসএফের হাতে আটক হয়। প্রথমে বিজিবি একে অবৈধ পুশইন মনে করে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানালেও পরে প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত হয়ে তাকে উদ্ধার করে।

আপনার মতামত লিখুন